বিশ্বকাপ নয় রাজনীতিতে কোয়াটার ফাইনালে জয় পেয়েছে আওয়ামীলীগ

কোয়ার্টারে জিতেছি এবার ফাইনালের জন্য প্রস্তুত: কাদের

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, গত ২৮ অক্টোবর কোয়ার্টার ফাইনাল হয়ে গেছে। সেই খেলায় তার দল জিতে গেছে।

শনিবার রাজধানীর আরামবাগে মেট্রোরেলের আগারগাঁও থেকে মতিঝিল অংশের উদ্বোধন উপলক্ষে আওয়ামী লীগের ঢাকা বিভাগীয় জনসভায় তিনি বলেন, খেলা হবে। ঢাকায় খেলা হবে, চট্টগ্রামে খেলা হবে, সিলেটে খেলা হবে, খুলনায় খেলা হবে, রংপুরে খেলা হবে, বরিশালে খেলা হবে। সতর্ক পাহারায় আপনারা আছেন। শেখ হাসিনার নির্দেশ, খেলা হবে। কোয়ার্টার ফাইনাল হয়ে গেছে, আমরা জিতে গেছি। সামনে সেমি ফাইনাল, তারপরে ফাইনাল হবে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে। ঠিক আছে? সব রেডি তো? বাংলার মানুষ ফাইনাল খেলার জন্য প্রস্তুত।’

এ সময় জনসভার মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

২৮ অক্টোবর ‘সরকার উচ্ছেদে বিএনপির আল্টিমেটাম’ এর প্রসঙ্গ টেনে ওবায়দুল কাদের বলেন, কোথায়…বাড়াবাড়ি, লাফালাফি কোথায়? ২৮ তারিখ, তারপরে ২৯, ৩০, ৩১…। নভেম্বরের আজ ৪ তারিখ। শেখ হাসিনা নির্ধারিত সময়ে মেট্রোরেলের আগারগাঁও-মতিঝিল অংশের শুভ উদ্বোধন করেছেন। তিনি আমাদের উপরে উন্নীত করছেন। ১৫ বছর আগের বাংলাদেশ, এই ঢাকা সিটি আর ১৫ বছর পরের বাংলাদেশ, এই ঢাকা শহর দিনে-রাতের পার্থক্য।

তিনি বলেন, আজকের এই সময়ে একটি বিপদে আমরা আছি; সেটা বিশ্ব সংকট। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, এখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, সুদানে যুদ্ধ, আজকে সারা দুনিয়া এই বিপদসংকুল পরিস্থিতে বাংলাদেশও কিছুটা সমস্যায় আছে। কিন্তু মনে রাখবেন, যেই নেতা বাংলাদেশে জনগণের জন্য রাতে ঘুমান না। ২৪ ঘণ্টায় সাড়ে ৩ ঘণ্টার বেশি ঘুমান না। তিনি জনগণের কথা বলেন, চিন্তা করেন, কাজ করেন। বঙ্গবন্ধুর পর শেখ হাসিনার মতো এত সৎ নেতা, এত জনপ্রিয় নেতা, এত দক্ষ নেতা, এত সফল নেতা আপনারা কি আর দেখেছেন? শেখ হাসিনার মতো জনদরদী আরেকজন নেতা কি আমরা পেয়েছি?

প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তাদের সঙ্গে আমাদের গ্যাপ ছিল। সেই গ্যাপ পূরণের জন্য উরসুলা ভন ডের লেইনের (ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট) দাওয়াতে নেত্রী ছুটে গেছেন। সেখানেও তিনি যা কিছু পেয়েছেন, সেটা আমার দেশের জনগণের জন্য।

শেখ হাসিনাকে বার বার নির্বাচিত করার কথা তুলে ধরে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা তাকে বারবার নির্বাচিত করবো। তিনি বাংলাদেশকে যেখানে নিয়ে গেছেন, বিশ্ব নেতারা প্রশংসা করেন। আর আমাদের দেশের সাম্প্রদায়িক জঙ্গীবাদী একটি দল, তাদের দোসররা শেখ হসিনাকে সম্মান করতে পারে না। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জন্য এত কিছু করেছেন। একটা ধন্যবাদও এরা কোনও দিন দিতে পারেনি। দুর্ভাগ্য আমাদের। শেখ হাসিনা একা নির্বাচন করলে ৭০ থেকে ৭৫ ভাগ (ভোট) পাবেন। এই জনপ্রিয়তা ওরা হিংসা করে, জ্বালায় মরে।

রাজনীতির মাছে জনপ্রিয়তা পাওয়া ‘খেলা হবে’ কথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, আগামী নির্বাচনে এই জঙ্গীবাদী, সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে পরাজিত করে বঙ্গবন্ধুর কন্যাকে আবারও বিজয়ী করতে হবে। বাংলাদেশের গণতন্ত্র এদের (বিএনপি-জামায়াত) হাতে নিরাপদ নয়। এরা ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করবে, রক্তের বন্যা বইয়ে দিবে, লাশের পাহাড় সৃষ্টি করবে। এই অপশক্তির হাতে আমরা বঙ্গবন্ধুর লাখো শহীদের বাংলাদেশকে তুলে দিতে পারি না। সে জন্য বাংলার মানুষ ফাইনাল খেলার জন্য প্রস্তুত। সারা বাংলায় খেলা হবে।

বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, তারা বলেছিলো ২৮ তারিখের পর শেখ হাসিনার সরকার থাকবে না। তিনি আছেন, তিনি থাকবেন। তিনি তো আগামীর বিজয়বার্তা নিয়ে বসে আছেন। কিন্তু বিএনপিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। টিভিতে দেখলাম, দৌড়ে পালাচ্ছে। হরতাল ঘোষণার জন্য মির্জা ফখরুলকে পেছন থেকে টানছে। তারা বলেছিলো, আমরা নাকি পালানোর পথ পাবো না। এখন কোথায়? আমির খসরু কোথায়? গয়েশ্বর বাবু কই? তারা কোনও কিছু না পেয়ে গুহায় ঢুকেছে। সেখান থেকে ব্রিফিং করছে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, কার্যনির্বাহী সদস্য সাঈদ খোকন, আনোয়ার হোসেন। প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *